জাতীয় সংসদে ’ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ ২০২৬‘ সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়েছে। সংসদে উপস্থিত সংসদ সদস্যরা বিল পাসে হ্যাঁ ভোট দিয়েছেন। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৩টায় বিল পাস সংক্রান্ত প্রস্তাব সংসদে উত্থাপন করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এর আগে গত ১২ মার্চ আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী ব্যারিস্টার মো. আসাদুজ্জামান এ অধ্যাদেশ উত্থাপন করেন।
গত ২২ জানুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ অনুমোদিত হয়। এ অধ্যাদেশের মাধ্যমে ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ এবং সরকারি তিতুমীর কলেজ ‘সংযুক্ত কলেজ’ হিসেবে পরিচালিত হবে। তবে এসব কলেজের নিজস্ব পরিচয়, অবকাঠামো ও সম্পদের ওপর তাদের অধিকার বহাল থাকবে।
অধ্যাদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য চ্যান্সেলর, ভাইস চ্যান্সেলর, সিনেট, সিন্ডিকেট ও অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলসহ পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক কাঠামো রাখা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি চ্যান্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং সিনেট মনোনীত প্যানেল থেকে ভিসি নিয়োগ দেবেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) শিক্ষা, পরীক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম তদারকির ক্ষমতা পাবে।
কলা, বিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা, আইন ও চারুকলাসহ বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের জন্য পৃথক স্কুল থাকবে, যার নেতৃত্ব দেবেন ‘হেড অব স্কুল’। সংযুক্ত কলেজগুলোতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের পাঠদান, পরীক্ষা ও মূল্যায়ন একটি অভিন্ন কাঠামোর আওতায় পরিচালিত হবে।
এসএসসি ও এইচএসসি ফলাফল এবং কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীরা মূল ক্যাম্পাস বা সংযুক্ত কলেজে ভর্তির সুযোগ পাবে। এছাড়া এমফিল ও পিএইচডি প্রোগ্রাম চালুর পাশাপাশি শিক্ষক উন্নয়ন ও উচ্চতর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
অধ্যাদেশে আবাসিক হল সুবিধা, ছাত্র সংসদ নির্বাচন এবং সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রম চালুর বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের পরিকল্পনা এবং তা না হওয়া পর্যন্ত সাময়িকভাবে কার্যক্রম চালানোর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
এছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলোকে আইনে রূপান্তরের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে আরও ১০টি বিল পাস হয়েছে। শুক্রবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৩তম দিনের সকালের অধিবেশনে উত্থাপিত বিলগুলোর ওপর দফাওয়ারি কোনো সংশোধনী প্রস্তাব না থাকায় সংসদে এ বিষয়ে আলোচনা হয়নি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা বিলগুলো উত্থাপন করলে সর্বসম্মতিক্রমে সেগুলো পাস হয়।
আরও পড়ুনঃ ইডেন মহিলা কলেজের আদ্যোপান্ত ইতিহাস
পাস হওয়া বিলগুলো হলো–
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের ‘নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০২৬’; দবরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০২৬’; ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০২৬’; ‘কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০২৬’ এবং ‘রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০২৬’ সংসদে উত্থাপন করেন এবং তা সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়।
সংস্কৃতি বিষয়কমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করেন এবং তা সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশন বিল, ২০২৬’ পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করেন এবং তা সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ‘আমানত সুরক্ষা বিল, ২০২৬’; ‘এক্সাইজেস এন্ড সল্ট বিল, ২০২৬’; মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করেন এবং তা সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়।
সম্মানিত পাঠক জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে!